লিখা- আদিব নাশিদ (একজন ক্ষুদ্র সমর্থক)
![]() |
| বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল |
ভূটান ট্রাজেডির পর দল যখন নির্বাসনে তখন দলটির দায়িত্ব নেয় ইংলিশ কোচ জেমি ডে। খুব একটা সহজ ছিল না দল গোছানো। সেখান থেকে দলকে ডিফেন্সিভ শেইপে নিয়ে আসেন । যে দলের সাথেই খেলা হোকনা কেন বাসপার্কিং ডিফেন্স করতে হবে। শেষদিকে কাউন্টার এটাক থেকে গোল করার চেষ্টা করবে। কিন্তু হতো তার উল্টো। বরং শেষদিকে গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যেত বাংলাদেশ ।
ইংলিশ কোচ জেমি চিন্তা করলেন, এদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা। তিনি বংশদ্ভূত ফুটবলার এর দিকে নজর দিলেন। তারিক কাজীকে ডেব্যু করালেন৷ রক সলিড ডিফেন্ডার। অভিষেকে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে। জিকো তখন ফুল ফর্মে, কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অতিমানবীয় পারফর্ম করলেন৷ তপুও তখন ইনফর্ম।যা আছে তা দিয়ে ডিফেন্স সামলানো যাবে এবার জেমি নজর দিলেন মিডে। "Rahber khan" কে ডাকলেন। অভিষেক এ মোটামুটি ভালই পারফর্ম করলেন৷
কিন্তু সিন্ডিকেটের সহ্য হলোনা। কারন ক্রমান্বয়ে বংশদ্ভূত ফুটবলার আসলে কমিশন বানিজ্য যে বন্ধ হয়ে যাবে। জেমি ডে কে বরখাস্ত করা হলো তড়িৎ গতিতে। দায়িত্ব দেয়া হলো বসুন্ধরার কোচ "অস্কার ব্রুজনকে "। তখন সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২১। এলিটাকে নিয়ে তামাশা করা হলো। প্রাথমিক দলে ডাকলেও চুড়ান্ত দল থেকে বাদ। সেই সাফে সুমন রেজাকে হাইপে তুলেছিল সিন্ডিকেট। কিন্তু ফলাফল আন্ডা। তারপর কোচ মারিও লেমোস, সর্বশেষ কাবরেরা৷
তখনকার সময় এবং তারও আগে থেকে জিসান ভাই,রাশেদ ভাই, নিয়মিত লিখতো হামজা চৌধুরীর মত ফুটবলাররা বাংলাদেশে আসলে কি পরিমান এক্সপোজার পাবে। আমরা ভক্ত সমর্থকরা পড়তাম রুপকথার গল্পের মত মনে হত। আদৌ কি এটা সম্ভব❓ বাংলাদেশ জাতীয় দলে এখন হামজা চৌধুরী, সমিত সোম খেলবেন। ভাবতেই অবিশ্বাস্য রকম একটা অনূভুতি। এটা বলে বোঝানো সম্ভব হয়৷
শূন্য থেকে দেখা স্বপ্নে বাংলাদেশের ফুটবলে যে জোয়ার এসেছে তা আপাতত চলমান থাকুক। স্বপ্নের মাপকাঠিকে খানিকটা উচুতে নিয়ে আমরা কুইন, কিংবা কাভানের স্বপ্ন বুনতে শুরু করি। জীবনটা ত আর রিস্ক বেনিফিট রেশিওর হিসেব কষে সবসময় আগায় না। তাদের ব্যাপারটা নাহয় ইংরেজিতে " আনপ্রেডিক্টেবল " শব্দটার উপরই ছেড়ে দেয়া যাক 😇
শুভকামনা বাংলাদেশ 🇧🇩




